আবুল হাসনাত মিনহাজ: চট্টগ্রামের মহেশখালী কালার মারছাড়া উত্তর ঝাপুয়াই সরকারি নিয়মকে তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠেছে নামে-বেনামে অবৈধ করাতকল বা স’মিল।অনুমোদনহীন অবৈধ করাত কলের রমরমা ব্যবসা চলছে। এ কারণে সরকার হারাচ্ছে মোটা অঙ্কের রাজস্ব।অবৈধ এসব করাতকলের দাপটে হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। পরিবেশ ও বন বিভাগের ছাড়পত্র কিংবা লাইসেন্সও নেই এসব করাতকলের। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রভাব ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় নজরধারি না থাকায় এ উপজেলায় যত্রতত্র গড়ে উঠেছে এসব স’মিল বা করাত কল। এসব স’মিলের কারণে উজাড় হচ্ছে বনজ ও ফলদসহ নানান প্রজাতির গাছ; যার ফলে হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ।
অনুমোদনহীন এসব মিলে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়মিত তদারকি না করায় সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। করাত-কলের মালিক ও অসাধু কাঠ ব্যবসায়ীরা নীরবেই এসব কাজ করে যাচ্ছে। যেখানে-সেখানে স’মিল স্থাপনের কারণে হুমকির মুখে রয়েছে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ। কমছে অক্সিজেনের ভারসাম্য।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বন আইন ১৯২৭ ও তৎপ্রণীত স’মিল (লাইসেন্স) বিধিমালা ২০১২ অনুযায়ী কোনো স’মিল মালিক লাইসেন্স না নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না। লাইসেন্স নেওয়ার পর থেকে প্রতিবছর তা নবায়ন করতে হবে। স’মিল স্থাপনের জন্য বন বিভাগের লাইসেন্স পাওয়ার পর নিতে হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, এ ছাড়া যেখানে-সেখানে স’মিল স্থাপন করা যাবে না।
করাতকল বন্ধের জন্য স্থানীয় সচেতন মহল থেকে একটি অভিযোগ করেন পরিবেশ অধিদপ্তরে। অভিযোগে রাকিবুল হাসান রুবেল,আজগর আলী ,মো: রিদুয়ান,মোক্তার আহমেদ,আবু বক্কর,জয়নাল আবেদিন,আবু আহমেদ,ইসমাইল সহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এই অভিযোগ করেন। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রভাবশালী এলাকার গ্যাং রাকিবুল হাসান রুবেল,আবু বক্কর ,ইসমাইল, মোঃ আলী ব্যক্তিরা অবৈধ করাত কলে ব্যবসা করে যাচ্ছে বলে জানান এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন,”করাতকলের মালিক ও অসাধু কাঠ ব্যবসায়ী প্রভাবশালী এলাকার গ্যাং রাকিবুল হাসান রুবেল,আবু বক্কর ,ইসমাইল, মোঃ আলী ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় নজরধারীর অভাবে করাতকল স্থাপন করে কাঠের ব্যবসা করছেন।পরিবেশ ও বন বিভাগের ছাড়পত্র কিংবা বৈধ লাইসেন্স না দেখে বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও কোনো অদৃশ্য ইশারায় অবৈধ করাতকলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয় থেকে অবৈধ করাতকলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশনা থাকলেও সেইটি মানছে তারা।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক করাত-কল মালিক বলেন, ‘দীর্ঘদিন আমাদের স’মিল চলছে। অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছি এখনও অনুমোদন পাইনি। এই ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক মোবাইল ফোনে বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া অবৈধভাবে করাতকল স্থাপন বা চালানোর কোন সুযোগ নেই। অবৈধ করাত কলের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ভ্র্যাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’